জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত এ দিন রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন।
শুনানিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী হাফিজুর রহমান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাশা করেন। অন্যদিকে কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি খুরশীদ আলমের পক্ষে তার আইনজীবী দাবি করেন, মামলায় দুদক অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে খুরশীদ আলমকে খালাস দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
এ মামলার বাকি ১৭ জন আসামি পলাতক থাকায় তারা আত্মপক্ষ সমর্থন কিংবা আইনজীবীর মাধ্যমে কোনো যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেননি।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, শেখ হাসিনার সাবেক সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, তন্ময় দাস, সাবেক সহকারী পরিচালক ফারিয়া সুলতানা ও মাজহারুল ইসলাম এবং সাবেক উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ আমলের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা দায়ের করে দুদক।
এর মধ্যে শেখ হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে করা তিন মামলার রায় ইতোমধ্যে ঘোষণা হয়েছে। চার মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল পাঁচ বছর করে, বোন শেখ রেহানাকে সাত বছর এবং ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ববি সহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে চলমান এ মামলায় আদালতে মোট ২৮ জন সাক্ষ্য দেন। গত ১৩ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। একই দিনে আত্মপক্ষ শুনানিতে খুরশীদ আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
এ মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা চলছে।