
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রশাসনিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা অ্যাডমিন সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঘিরে ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একের পর এক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগগুলোর ধরন ও ব্যাপ্তি এনবিআরের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, মোয়াজ্জেম হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম কার্যত তাঁর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা কিংবা প্রশাসনিক নীতিমালা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত লবিংয়ের মাধ্যমে পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
বদলি ও পদায়নে “মূল নিয়ন্ত্রক”?
এনবিআরের ভেতরের একটি অংশের ভাষ্যমতে, কে কোথায় বদলি হবেন কিংবা কে কমিশনার হবেন—এই সিদ্ধান্তে মোয়াজ্জেম হোসেনের ভূমিকা নির্ধারক। এর ফলে প্রশাসনের ভেতরে এক ধরনের ভয় ও নির্ভরশীলতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই ক্ষমতাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে নিয়োগ–বাণিজ্যের একটি অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
কমিশনারদের কাছ থেকে মাসিক ‘মাসোহারা’র অভিযোগ
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ হলো—বর্তমানে দায়িত্বে থাকা প্রায় প্রতিটি কমিশনারের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়। সূত্রগুলোর দাবি, এই অর্থের পরিমাণ লাখ টাকার ঘরে এবং তা নিয়মিত। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার ভাষায়, “এই টাকা না দিলে কাঙ্ক্ষিত পোস্টিং তো দূরের কথা, পদে টিকে থাকাও কঠিন।”
ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও প্রশাসনিক সন্ত্রাস
ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মিতভাবে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় নোটিশ, ফাইল আটকে রাখা, অনুমোদন বিলম্ব—এসবকে ‘চাপ সৃষ্টির কৌশল’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। অনেক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পেলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর অভিযোগের পাহাড়
সূত্রগুলো বলছে, অ্যাডমিন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর এমন কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ নেই—যার সঙ্গে মোয়াজ্জেম হোসেনের নাম জড়ায়নি। যদিও এসব অভিযোগের অধিকাংশ এখনও আনুষ্ঠানিক তদন্তের মুখ দেখেনি, তবে অভিযোগের ধারাবাহিকতা ও বিস্তৃতি বিষয়টিকে আর ‘বিচ্ছিন্ন’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখছে না।
নীরব এনবিআর, প্রশ্নবিদ্ধ জবাবদিহিতা
এ বিষয়ে মোয়াজ্জেম হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এনবিআরের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা অবস্থান পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের এই নীরবতা অভিযোগগুলোকে আরও ঘনীভূত করছে।
তদন্তের দাবি
বিশেষজ্ঞ ও সুশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় রাজস্ব ব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ রাষ্ট্রের জন্যই অশনিসংকেত। অবিলম্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এই প্রশ্নগুলোর জবাব মিলবে না। অন্যথায় এনবিআরের প্রশাসনিক কাঠামো ক্রমেই আস্থাহীনতায় নিমজ্জিত হবে।





