
দুর্নীতির মামলার তদন্ত চলমান থাকায় সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার ঢাকার মিরপুর, পল্লবী ও সাভারে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কেট, ফ্ল্যাট ও জমি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর মালিকানাধীন চারটি গাড়ি, প্রাইজ বন্ড এবং ১৪টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ক্রোককৃত স্থাবর সম্পদের ঘোষিত মূল্য ১৭ কোটি ৭৭ লাখ ৩২ হাজার ৪৯৭ টাকা। ফ্রিজ হওয়া ১৪টি ব্যাংক হিসাবে রয়েছে ৭ কোটি ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৬০ টাকা। এছাড়া চারটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৬৪ টাকা এবং ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার জমি, ফ্ল্যাট ও মার্কেট ক্রোক এবং গাড়ি, প্রাইজ বন্ড ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে ১৪ কোটি ৮ লাখ ২৮ হাজার ৬০৭ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি নিজ নামে ও তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ১৭৩ কোটি ৪৬ লাখ ৪১ হাজার ৮০৪ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারাসহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার অর্জিত সব সম্পদের উৎস এখনো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত চলাকালে তাঁর নিজ নামে ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ যাতে অন্যত্র হস্তান্তর বা স্থানান্তর করতে না পারেন, সে জন্য এসব সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।





