
বিদেশে সম্পদ, দেশে বিতর্ক: নেয়াজুর রহমানকে ঘিরে অনুসন্ধান শুরু
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস অনুবিভাগের কমিশনার ও কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে তথ্য ও নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, নেয়াজুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অর্থ পাচার, চোরাচালান সিন্ডিকেটে সম্পৃক্ততা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের পণ্য আটকে রেখে ঘুষ আদায় করতেন। নির্ধারিত অংকের ঘুষ না দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের হয়রানির শিকার হতে হতো।
আরও অভিযোগ রয়েছে, নেয়াজুর রহমান দেশে নয়, বরং লন্ডন ও দুবাইয়ে ঘুষ গ্রহণ করতেন। এ কাজে তার একটি এজেন্ট নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল, যারা বিদেশে তার পরিবারের কাছে অর্থ পৌঁছে দিত।
সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, যুক্তরাজ্যে তার পরিবারের বসবাস এবং সেখানে একাধিক বাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। লন্ডনে অন্তত তিনটি বাড়ি কেনা এবং ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমা রাখার অভিযোগও রয়েছে। এসব সম্পদের উৎস হিসেবে দুর্নীতির অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
মোংলা কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালনকালে নিলাম প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে নেয়াজুর রহমানের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সিলেট ভ্যাট কমিশনারেটে থাকাকালে এলসি স্টেশন দিয়ে চোরাই পণ্য প্রবেশে সহায়তা, ওজন কারসাজি এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে।
এছাড়া সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব চোরাচালান থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিদেশে পাচার করা হতো বলে জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান। তিনি বলেন, “২০২১ সাল থেকে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। আমি যেখানে দায়িত্ব পালন করেছি, সেটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। অনেকেই সেখানে আসতে চেয়েছিল, কিন্তু পায়নি।”
তার পরিবারের সদস্যদের লন্ডনে বসবাসের বিষয়টি স্বীকার করলেও তিনি দাবি করেন, তার কোনো ব্রিটিশ পাসপোর্ট নেই এবং তিনি কেবল বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেন।
এদিকে, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, নেয়াজুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শিক্ষিত এবং ২০০৩ সালে সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুদকের চলমান অনুসন্ধানের ফলাফলই এখন মূলত নির্ধারণ করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।





