
পাবনা–৪–এ পুনর্গণনার দাবির মাঝেই হাবিবুর রহমান হাবিবকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করার আবেদন
এক্সপ্রেসওয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬–এ পাবনা–৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনের ফলাফল ঘিরে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগের মধ্যেই বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, পরিকল্পিত অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও প্রভাবশালী একটি চক্রের তৎপরতার কারণে হাবিবুর রহমান হাবিব কাঙ্ক্ষিত ফল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাদের ভাষ্য, “তিনি প্রকৃত অর্থে পরাজিত হননি; বরং সুপরিকল্পিতভাবে তাকে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।” দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং ভোটের দিন বিশৃঙ্খলার অভিযোগও তোলা হয়েছে কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।
এদিকে পাবনা–৪ আসনে ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কারচুপি ও দুর্নীতির অভিযোগে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তাল হয়ে ওঠে। একই প্রেক্ষাপটে আন্দোলনের মুখে পাবনা–৩ ও পাবনা–৪ আসনের প্রকাশিত ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ পুনর্গণনা ও নথিপত্র যাচাই শেষে পুনরায় ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান (হাবিব) অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘোষিত ফলাফল ও ফরম–১৬–এর তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। বিএনপির এজেন্টদের গণনাকক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়া, বৈধ ভোট বাতিল দেখানো এবং তড়িঘড়ি করে ফল ঘোষণা—এমন নানা অভিযোগ লিখিতভাবে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি প্রভাবশালী চক্র মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে।
হাবিবুর রহমান বলেন, “যাদের দায়িত্ব ছিল নির্বাচন সুষ্ঠু করা, তারা জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও প্রকৃত ফল প্রকাশ না হলে জনগণের আস্থা আরও ক্ষুণ্ন হবে।” তিনি সব কেন্দ্রে ভোট পুনর্গণনা, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী নথিপত্র পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানান।
অভিযোগ ও প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন দুই আসনের ফল স্থগিত রেখে পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
এর মধ্যেই ঈশ্বরদী–আটঘরিয়ার নেতাকর্মীরা বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাবিবুর রহমান হাবিব দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে এলাকায় কাজ করে আসছেন। তাকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। পাশাপাশি যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে প্রার্থীকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।








