
হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। কার্ড দেওয়ার আগে প্রতিটি আবেদন তিন পর্যায়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলো অগ্রাধিকার পাবে। এই কার্ডের নকশা ও সুযোগ–সুবিধা প্রচলিত অন্যান্য কার্ডের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা ও অনন্য হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড চালুর মূল লক্ষ্য সম্পর্কে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, এর মাধ্যমে পরিবারে নারীর গুরুত্ব বাড়ানো এবং সামগ্রিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি এটিকে সরকারের একটি অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প হিসেবে অভিহিত করেন।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের আটটি বিভাগের আটটি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা করেছেন। অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে একটি মন্ত্রিসভা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরকে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আধুনিক ও উন্নতমানের ডিএনএ ল্যাব স্থাপনে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
ওই সভায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন দেশের দুই–তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প শুধু কাগজে–কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তা যেন সাধারণ মানুষের প্রকৃত কাজে লাগে। সীমিত সম্পদের অপচয় রোধ করে সঠিক সমস্যা চিহ্নিত করার মাধ্যমেই জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব।
মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, জনগণের রায় বা ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়কে একটি সমন্বিত টিম হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে চলমান নীতিমালায় পরিবর্তন এনে হলেও নারী ও শিশুদের কল্যাণে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।








