
বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনে এ অধিবেশন শুরু হবে। অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কার্যসূচি অনুযায়ী, অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন এবং শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।
দিনের কার্যসূচির ৪ নম্বর এজেন্ডায় রয়েছে অধ্যাদেশ উপস্থাপন। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করবেন। সংসদ না থাকায় এসব অধ্যাদেশ বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা হয়েছিল।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। তবে নির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এসব অধ্যাদেশ পাস করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অন্যথায় অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশের কার্যকারিতা লোপ পাবে।
এছাড়া জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সংবিধানের ১৪১(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করবেন।
প্রথম দিনের কার্যসূচিতে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি গঠনের বিষয়ও রয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য দিয়ে দিনের অধিবেশন শেষ হবে।
বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে এবং এদিনই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। পরে রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পড়াবেন।
তিনি আরও বলেন, প্রথম অধিবেশনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে এবং সেগুলোর ওপর আলোচনা হবে।
এদিকে বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সংসদের প্রথম অধিবেশন এবং সম্ভাব্য ঐতিহাসিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অন্যদিকে বিরোধী দল জামায়াত জোটও সংসদ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা কয়েকটি দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেছে। সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন প্রাণবন্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সংসদ সচিবালয় এলাকায় জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আগমন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকেও যান চলাচলে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।








